আমি ভাবি সেদিনের কথা
যখন আমি উঠোনের মেঝেতে
শীতল পাঠির উপর শূয়ে
কখনো নানি কিংবা মায়ের উরুতে মাথা রেখে
উম্মুক্ত আকাশের দিকে তাকিয়ে
ফুটফুটে জুৎস্নার পানে
গভীর আগ্রহ নিয়ে দুনয়ন ভরে
ভাবথাম, কত সুন্দর এ পৃথিবী
কত মায়াবী আমাদের এই ধরা
কত নির্মল ভালবাসার, কুমলতার চূয়াঁ
দিয়ে যায় এই আকাশ, সুন্দর তারকারা
ভাবতাম, কত সূখী, ভারী ভাগ্যের অধিকারী
অচিন গ্রামের এই আমরা
সময়ের সাথে পরিবর্তনের ছূয়াঁ লাগে
দেহের সাথে মানেরও বদল হয়
চাওয়া পাওয়ারও পরিবর্তন হয়
ইচ্ছে জাগে দেখব পৃথিবীকে
ভাষনা জাগে মনে, ভাবি অনেক বড় হব
গ্রামের মায়াবী পরসের মূহ কমতে থাকে
মসৃন প্রকৃতির টান কমতে থাকে
স্পষ্ট রাতের পূর্ন চাঁদের আকর্ষণ কমে
শেষ দূপুরের পুকূর পারের জীর্ণ বাতাসের
আরাম পাওয়ার নেশা চলে যেতে থাকে
সপ্নের সাম্রাজ্যে ইচ্ছার সুচনা থেকে শেকড় গাড়ে
শহুরে জীবনের বদ্ধ ঘরের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে
ভাবি, বিশাল অট্টালিকার মসৃন আস্তরনের কাছে
চাকচিক্যের যে আভিজাত্য চোখে টেকে
মানবিকতার শূন্যতা যে আছে
তাহা একবারও মাথায় আসেনি
আজ অনেকটি বছর পেড়িয়ে
জীবন সংসার শূরুর বদৌলতে
শুধু অর্থের নেশা, কিংবা খ্যাতি পাওয়ার আখাংকা
আংশিক হলেও কমে এসেছে
তাই প্রায়ই আধুনিক জীবনের যাতাকলে
জীবনটা অনেকটাই মেশিনের মত লাগে
যান্ত্রিকতার প্রচন্ড আঘাতে জর্জরিত
ভগ্ন হৃদয় নিয়ে
আজ প্রায়ই ফিরে দেখি
খুজে পেতে চাই সে দিনগুলি
যখন ছিলনা এত আয়োজন
যখন ছিলনা এত আনন্দ বিনোদন
কিন্ত তবুও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মায়াজালে
বসন্তের ফুলেল পরিবেশে
কূকিলের কন্ঠ শুনে
কিংবা শরতের সকালের শিশীর বিন্দু ছূঁয়ে
ভরা বর্ষায় নব পানিতে গজিয়ে ঊঠা
শাপলা ফূলের দৃশ্য দেখে
হৃদয় মন প্রশান্তিতে ভরে যেত
সর্বাঙ্গ সস্থির আসিম পরসে বিশ্রাম নিত
আজ খুজে ফিরি সেই দিনগুলি
যখন মুক্ত বিহঙ্গের মত ঘোরে বেড়াতাম
ইচ্ছেমত গাছে গাছে উড়ে বেড়াতাম
ছিলনা কোন চিন্তা, কোন মানসিক আস্থিরতা
আজ পেছনে ফিরে থাকিয়ে
সেদিনগুলির স্মৃতিচারনে
মানের গভীরে বিষাদের অনুভূতি জাগে
কিন্তু লাভ কি তাতে?
আর কি সেদিন আসিবে ফিরে?
শধু রয়ে যাবে স্মৃতির সাগরে
একটি সুন্দর সপ্ন হয়ে
যার দেখা মিলেছিল কোন এক কালে
নিদ্রার মাঝে, এক সুন্দর সপ্ন রুপে !